দুপুর মিত্র
একবার এক দেশে শিব ঠাকুরের ভক্ত বাড়তেই লাগল। এটা কিন্তু সত্যি পাঠক। পড়ার পর বলবেন যে কি সব গল্প বানিয়ে বানিয়ে লেখে তা কিন্তু হবে না। হাজার-হাজার, লাখ-লাখ, কোটি-কোটি মানুষ ভক্ত হতে শুরু করল শিবের। শিব ঠাকুর এক পাহাড় থেকে নেচে বেড়ান আরেক পাহাড়ে। এক শ্মশান ঘাট থেকে উড়ে বেড়ান আরেক শ্মশানে। শিবের সাথে কোনও দেবতাই আর পেরে উঠছেন না। সবাই যদি শিবেরই ভক্ত হয়ে যান তাহলে অন্য দেবতাদের কি হবে ? দেবতারা যুক্তি করলেন, যাই হউক এই শিবকে ঠেকাতেই হবে। দেবতারা মর্ত্যে নেমে এলেন। শিবের কি এমন শক্তি যে সব মানুষ তার ভক্ত হয়ে উঠছেন। দেবতারা মানুষ রূপে শিবালয়ে ঘুরতে লাগলেন। খোঁজ করতে লাগলেন কি এই শিবের শক্তি। দেবতারা কয়েকদিন মর্ত্যে থেকে ফিরে গেলেন দেবতালয়ে।
একদিন সব দেবতারা শিবের কাছে গেলেন। গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে মহাদেব, এ তোমার কেমন রূপ। মর্ত্যলোকে সকল মানুষ কেবল আপনারই ভক্ত হয়ে ওঠছে। মহাদেব হাসলেন। বললেন, কেন দেবকুল। এভাবে কেন বলছেন? এ সময় নারদ বলে ওঠলেন, কিন্তু মহাদেব আমি মর্ত্যলোক ঘুরে এসে দেখলাম, মনুষ্যকুল সত্যিকার অর্থে আপনার ভক্ত নয়। মহাদেব বিচলিত হলেন। বললেন, কি বলছেন এসব নারদ মুনী। নারদ বললেন, হে সত্যি মহাদেব, আমি মর্ত্য লোক ভাল করে ঘুরে দেখেছি। তারা কেউই আসলে আপনার ভক্ত নয়। মহাদেব বললেন, আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না। নারদ মুনি বললেন, আপনি মনুষ্যকূলকে নষ্ট হওয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। যা আপনার কাছ থেকে কাম্য নয়। আপনার কারণেই দেবতাদের সম্মান ুণœ হচ্ছে। মহাদেব এবার ক্রোধ সামলাতে পারলেন না। নারদ বলে চিৎকার করে ওঠলেন তিনি। কেঁপে ওঠল পৃথিবী। নারদ বললেন, বিশ্বাস না হয়, তো একবার মর্ত্য লোক ঘুরে আসুন মহাদেব। আমরা দেখে আসলাম, কেউই আপনার ভক্ত নয়, তাদের ভক্তি কেবল গঞ্জিকা সেবনে। হাজার-হাজার, লাখ-লাখ, কোটি-কোটি মানুষ আপনার মন্দিরে যাচ্ছে কেবল গঞ্জিকা সেবন করতে, আপনাকে ভক্তি করতে নয়। এইভাবে চলতে থাকলে দেবতাদের কোনও সম্মানই থাকবে না মনুষ্যকূলে। সঙ্গে সঙ্গেই মহাদেব ধ্যানস্থ হলেন। এরপর থেকে মহাদেবকে কোনও দেবতাই নাকি গঞ্জিকা সেবন করতে দেখেন নি।