মনোয়ারা স্মৃতি
পরিব্রাজক হয়ে চষে বেড়িয়েছি তোমার নগর
মৌনী সাধক হয়ে নাকছাবি করে
রাখতে চেয়েছি নিঃশ্বাসের কাছাকাছি,
খুঁজে পাইনি মনোতল।
তারপর কোন এক অমাবস্যার তিথিতে
মৃত্যুকে পান করে বরণ করেছি পৃথিবীর সমান কবর।
বুকের ভেতর নষ্ট মেঘের ভীষণ তোলপাড়,
সুগন্ধি রাতের ঘ্রাণ মেখে,
এক বর্ষার ব্যাপকতা নিয়ে ঝরতে চায় অঝোরে।
কিন্তু এখানে যে কিছু নেই, কিচ্ছুটি নেই আর,
নিখোঁজ সময়ের সঘন চুম্বনের উর্বর দাবানলে
ধোঁয়া হয়ে উড়ে গেছে কিছু বাকিটা পুড়ে ছারখার,
শুকিয়েছে দু'চোখের সরোবর।
শাহি নর্তকীর লাস্যময়ী হসির মতো স্মৃতি জোনাকিরা,
আজও ঘুমায়নি এক পলক।
রাতবেরাতে উত্তাল নৃত্যের আসর জমায়,
শরাবি চোখের ফাঁদে ফেলে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়ায়।
ভোর হতেই আবারও পরিব্রাজক হই
নিজ মনভূমে ঘুরে দেখি আমি তোমাতেই অবরুদ্ধ,
তারপর হাজারদুয়ারী ঘরে থিতু হয়ে
হোমারের মতো আঁধারের গায়ে কবিতা লেখি,
যার প্রতিটি পঙক্তি জুড়ে শুধু একটি কথা
তুমিই আমার গোপন আরাধ্য।