banner

We love to create unique, successful templates for your websites

Countdown Timer Expired

Days
Hours
Minutes
Seconds
মৃত্যু

মাহমুদুর রহমান 

  মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু বেঁচে আছেন ওটাই অস্বাভাবিক, রহস্যময়। মানুষের জন্মের আগেই শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। প্রাণঘাতী শত সহস্র রোগ-বালাই, ভাইরাস-ব্যাকটিরিয়া প্রতিনিয়তই আপনাকে শেষ করতে চাইছে। আপনি জানেন না, বাইরে বের হয়ে আপনি আর বাসায় ফিরতে পারবেন কিনা। কারণ চারদিকেই হাজারো দুর্ঘটনার ক্ষেত্র তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। প্রযুক্তির বিকাশ আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি করেছে ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরমানু ইত্যাদি। এতসব সাক্ষাৎ বিপদের মধ্যে বসবাস করেও বেঁচে থাকাটা আমার নিকট একটা বিস্ময়। কিন্তু মৃত্যু খুবই সহজ, স্বাভাবিক, সত্য। তাই মৃত্যু সবসময়ই কাঙ্ক্ষিত। দুর্ঘটনা হোক আর রোগবালাই-মৃত্যু মৃত্যুই। অস্বাভাবিক মৃত্যু বা অকাল মৃত্যু বলতে পৃথিবীতে কোনো মৃত্যু নেই। কারণ ৮০ বছরের বৃদ্ধ যখন ১০৫ বছর বয়সী পিতার আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যায় তখন কি আমরা সেই মৃত্যুকে অস্বভাবিক বলবো? না, এটা স্বাভাবিক মৃত্যু! ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই যে শিশু পৃথিবীর আলো না দেখেই মারা যায়- তার মৃত্যুকে কি বলবেন? অস্বাভাবিক মৃত্যু? নিশ্চয়ই নয়! তাই আমার কাছে সকল মৃত্যুই স্বাভাবিক। সেটা মসজিদে আগুন লাগুক বা মক্কাতে ক্রেন ভেঙ্গে পড়ুক, কেদারনাথ (ভারতের তীর্থস্থান) এর বন্যা হোক অথবা হোক সান্তিয়াগো (চিলি) এর গির্জার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তাই নারায়নগঞ্জের মসজিদের মুসল্লীদের মৃত্যুবরণও খুবই স্বাভাবিক। কেদারনাথ এর হরকা বানে মৃত্যু হোক আর গুজরাটের ঝুলন্ত সেতু ভেঙ্গে হোক, সব মৃত্যুই স্বাভাবিক। আপনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যদি কোনো কাজ করেন তাহলে আপনার মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়বে। তাই না? কারণ আমরা প্রতিনিয়তই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকি। যেহেতু গ্যাস বিদ্যুৎ থেকে ইতিপূর্বেও বহু মসজিদ মন্দির গির্জা পুড়েছে, তাই আরও পুড়বে- এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ ভগবান ইশ্বর আগেও কোনোদিন তার অনুসারীদের বাঁচাতে আসেনি, আর আসবেওনা কোনোদিন। তারপরও মূর্খতা জাহির করার জন্য কিছুসংখ্যক মানুষ হিন্দু মরলে আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে ফেইসবুক ভাসাবে, আবার কিছু লোক মুসলিম মরলে জয় শ্রীরাম বলে আনন্দ করবে। তারা আসলে শুধুই ধার্মিক। তাদেরকে মানুষ বলার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাই না। এজন্যই কাজী নজরুল বলেছিলেন-   ‘দেখিলাম, আল্লার মসজিদ আল্লা আসিয়া রক্ষা করিলেন না, মা-কালীর মন্দির কালী আসিয়া আগলাইলেন না! মন্দিরের চূড়া ভাঙিল, মসজিদের গম্বুজ টুটিল! আল্লার এবং কালীর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। আকাশ হইতে বজ্রাঘাত হইল না মুসলমানদের শিরে, ‘আবাবিলের’ প্রস্তর-বৃষ্টি হইল না হিন্দুদের মাথার উপর।’