অনন্ত আশাবাদ
তোমার তাড়া ছিলো যাবার,
আমার তখনো শেষ হয়নি কথা।
ডাহুকডাকা রাত ভোর হয়…
বিবশ সময়ের ঘোড়া ছুটে চলে নিরবচ্ছিন্ন—
সে থামতে জানে না।
জীবন ঘুরতে থাকে কক্ষপথে আপন নিয়মে,
কখনো দ্রুতলয়ে, কখনো হালকাচালে!
গ্রীষ্ম আসে-বর্ষা আসে, জন্ম আসে-জরা আসে,
ফিরে আসে মাধবী- হাসনাহেনার দিন,
ফিরে আসে অগ্নিঝরা কৃষ্ণচূড়ার হাসি…।
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে শত শতবার,
যা কিছু কৃষ্ণকায় তাতে শুভ্রতার আঁচ লাগে,
মেদ জমে-শক্তি কমে,
চোখের উপরে বসে বাড়তি দু’টো চোখ।
ক্ষীণ হয় তবু আশা বেঁচে থাকে জোনাকি প্রায়…
সকালের কুসুম কুসুম রোদ চুপি চুপি এসে,
বলে যায় কানে কানে—
‘তুমি আসবে ফিরে,
দেখা হবে অন্তত শেষ একবার।’
ভাদর মেঘের চিঠি
কার বিরহী বদন হেরি পাতার ফাঁকে,
মৃদু হাওয়া কী বলে ইশারায়?
জীবনের প্রয়োজন হাঁক ছেড়ে ডাকে,
মন যেতে চায় নিরালায়।
ক্ষণে ক্ষণে ব্যথা জাগে বুকে,
উড়ো মেঘ গাঢ় হয় অবেলায়।
সম্মুখে পেছনে বাধার হিমালয়,
স্থবির হয়ে আসে পা নিরাশায়।
দ্রোহ করতে উদ্ধত হয় শরীর,
মন জোর করে, বিরুদ্ধে যায়।
আশার আল্পনা আঁকে সে,
সম্ভাবনাহীনতার সম্ভাবনায়।
ভাদরের মেঘ উড়ে গিয়ে বলো তাকে,
আমি আছি আজো অপেক্ষায়।
বন্ধু তোমাদের
একদিন পাখিদের দলে ভিড়ে
আমিও আসবো কুয়াশা ঢাকা ভোরে।
অচেনা-অনাহুত, অতিথি পাখি ভেবে
বুকে বিঁধো না তীর—
আমি তোমাদেরই একজন,
আমি তোমাদেরই বন্ধু।
কুয়াশা মোড়ানো পথের বাঁকে
শর্ষে ক্ষেতের হলুদে সবুজে
সকালের শিশু রোদের আঁচে…
স্নেহে ও প্রেমে মাখামাখি
স্মৃতিকাতর মন পড়ে আছে।
আমার অদৃশ্য, অধরা, অতৃপ্ত মন!
চেনা পৃথিবী ছেড়ে, চেনা প্রান্তর ছেড়ে,
পরগাছা জীবন… ।
জনারণ্যে দেখা হয়ে গেলে কভু,
চিনে নিও আমি সেই—
খুব পরিচিত-অপরিচিত-নামহীন
পথের ধারে অনাদরে ফুটে থাকা ‘ঘাসফুল’।
